
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে শক্তিশালী করে তুলতে চাইছে বিএনপি। এই লক্ষ্যেই নিষ্ক্রিয় ও বহিস্কৃত নেতাদের বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত ১১ নেতাকে দলে নেওয়া হয়েছে। এসব নেতারা তাদের অতীতের ভুল স্বীকার করে দলের মূলধারায় ফিরতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে আবেদন করেছিলেন। তার প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সংস্কারপন্থী ১১ নেতা সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মহাসচিব তাদের দলে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।
দলে ফেরা সংস্কারপন্থীরা হলেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী নওগাঁর আলমগীর কবীর, সাবেক হুইপ জয়পুরহাটের আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান, নরসিংদীর সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, বগুড়ার গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (জিএম সিরাজ), ডা. জিয়াউল হক মোল্লা, বরিশালের জহিরউদ্দিন স্বপন, সুনামগঞ্জের নজির হোসেন, নারায়ণগঞ্জের আতাউর রহমান আঙুর, রাজশাহীর আবু হেনা, পটুয়াখালীর শহীদুল আলম তালুকদার ও ঝালকাঠির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা যারা দলে নিষ্ক্রিয় ছিলাম তাদের মধ্য থেকে ১১ জনকে দলে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমরা দলে আগের মতো সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পাব।’ সুযোগ করে দেওয়ার জন্য চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
দলে যোগ দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, আমরা দলে আছি, আগে ছিলাম এবং দলে থাকব। আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ পেয়েছি। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই বিষয়ে জেনেছি। আমরা দলের নির্দেশনা অনুযায়ী একযোগে কাজ করে যাব।
শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, আমরা এত দিন দলে নিষ্ক্রিয় ছিলাম, এখন আমাদের সক্রিয় হওয়ার জন্য দল থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন জেলে আছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে আছেন এবং সামনে নির্বাচন আছে। আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করব। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এতদিন কেন নিষ্ক্রিয় ছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে শহীদুল আলম তালকুদার বলেন, একটি ঘরের ভেতরে তো বিভিন্ন রকমের সমস্যা থাকতেই পারে। এখন সবাই এক হয়ে কাজ করবো। অনেক সময় অন্য কেউ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার কারণে নিষ্ক্রিয় ছিলাম, এখন দলের জন্য কাজ করবো।তিনি আরও বলেন,আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া বা সংসদ সদস্য হওয়া মূল বিষয় নয়, দলকে টিকিয়ে রাখাই আমাদের লক্ষ্য।
বিএনপি সামনে শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার জন্যে সকলকে দলে ভেড়াতে চাইছে। তাঁদের এ উদ্দেশ্য কতটা সফলতার মুখ দেখবে, তা সময়ই বলতে পারে।
অনলাইন বাংলা নিউজ বিডি :/ মোঃ মোস্তফা কামাল
Leave a Reply