
প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা সিনহার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন বলে বঙ্গভবনের বরাতে সকালে গণমাধ্যমে খবর আসার পর দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “প্রধান বিচারপতিকে (সিনহা) নজিরবিহীনভাবে ন্যক্কারজনকভাবে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে আজকে বলেছেন যে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই, তিনি (সিনহা) ইচ্ছাকৃতভাবে এই পদত্যাগপত্র দেন নাই, জোর করে তাকে দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে।
“এটা অশনি সংকেত, এটা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। উচ্চতর আদালতে যে নজিরবিহীন, খারাপ, হীন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হল- তা বাংলাদেশের মানুষ কখনও গ্রহণ করবে না।”
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে এক মাসের বেশি ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বিদেশে যান বিচারপতি সিনহা। সেই ছুটি শেষে গত শনিবার তার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানায় বঙ্গভবন।
সেই পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন বলে মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান তার প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ বলেন, “ওই রায়ে বর্তমান সংসদকে প্রধান বিচারপতি ডিসফাংশনাল বলেছেন; এতে আওয়ামী লীগ গোস্বা করেছে। এই সংসদ ডিসফাংশনাল, কারণ এখানে ১৫৪টি আসনে যেসব প্রার্থী ছিল, জনগণ সেখানে কাউকে ভোট দেয় নাই। সংবিধানে লেখা আছে জাতীয় সংসদ সদস্য তিনি, যিনি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাহলে ১৫৪ জন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়।”
বিচারপতি সিনহা ছুটি থেকে ফিরে ওই ১৫৪ জনের বৈধতার প্রশ্নে করা একটি রিটের শুনানি নিয়ে তাদের অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন বলে সম্ভাবনা থাকায় তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের।
তিনি বলেন, “আমরা শুনতে পারছিলাম যে, প্রধান বিচারপতি ছুটি থেকে বসে… একটি রিট করা আছে যে ১৫৪ জন অবৈধ, সেই রিট মামলার শুনানি করবেন। হয়ত সিদ্ধান্তে যেতে পারে ১৫৪ আসন অবৈধ। তাহলে সরকার অবৈধ হয়ে যায়।
“এজন্যই সরকার প্রধান বিচারপতি (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) ওপরে কী ন্যক্কারজনকভাবে, নজিরবিহীনভাবে প্রথমে সুস্থ মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে ছুটির দরখাস্ত করিয়ে নিল, পরে তাকে গায়ের জোরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিল।”
খন্দকার মোশাররফ বলেন, “শুধু তাই না, সেই প্রধান বিচারপতিকে সরকারের লোকরা সিঙ্গাপুরে গিয়ে, তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে চলে আসছিলেন বাংলাদেশে আসার জন্য, সেখানে গিয়ে জোর করে তার থেকে পদত্যাগপত্র নেওয়া হয়েছে। এটা অশনি সংকেত।”
Leave a Reply